
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্সের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে প্রবাসীরা প্রায় ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রতারণার শিকার হন। কেউ কেউ অবৈধ পথে বিদেশ যেতে গিয়ে পাচারের শিকার হন, আবার অনেকে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বাংলাদেশের অভিবাসনপ্রবণ জেলাগুলোতে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত, মানবপাচার প্রতিরোধ ও সচেতনতা তৈরি এবং বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের পুনরেকত্রীকরণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য ও প্রশংসনীয়। অভিবাসন বিষয়ক সাংবাদিকতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ব্র্যাক ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো ‘মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রবর্তন করে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার নিরাপদ অভিবাসনের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং বিদেশ-ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের অধীনে ‘একাদশ মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে।
যেসব বিভাগে/ক্যাটাগরিতে ‘একাদশ মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে
(ক) সংবাদপত্র (জাতীয়) : অভিবাসন বিষয়ে দেশে-বিদেশে যে কোনো জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
(খ) সংবাদপত্র (আঞ্চলিক) : অভিবাসন বিষয়ে বাংলাদেশের যে কোনো আঞ্চলিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
(গ) অনলাইন : অভিবাসন বিষয়ে দেশে-বিদেশে যে কোনো অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন।
(ঘ) টেলিভিশন সংবাদ : অভিবাসন বিষয়ে দেশে-বিদেশে যে কোনো টেলিভিশনে সম্প্রচারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
(ঙ) টেলিভিশন অনুষ্ঠান : অভিবাসন বিষয়ে দেশে-বিদেশে যে কোনো টেলিভিশনে সম্প্রচারিত অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন।
(চ) প্রবাসী সাংবাদিক : অভিবাসন ও ডায়াস্পোরা বিষয়ে প্রবাসে অবস্থানরত সাংবাদিকের প্রিন্ট, অনলাইন বা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত/প্রকাশিত অনুষ্ঠান বা প্রতিবেদন।
(ছ) সোশ্যাল মিডিয়া : নিরাপদ অভিবাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা মানসম্মত ফেসবুক পেজ/ব্যক্তিগত আইডি/ব্লগ/ইউটিউব
প্রতিবেদন/অনুষ্ঠান/সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টসমূহ প্রকাশ বা প্রচারের সময়সীমা
দেশে অথবা বিদেশে অবস্থানরত যে কোনো বাংলাদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মী আবেদন করতে পারবেন। অভিবাসন বিষয়ক প্রতিবেদন/অনুষ্ঠান/ব্লগ/সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্টসমূহ অবশ্যই ১লা জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে প্রকাশিত/প্রচারিত হতে হবে।
যোগ্যতা ও সতর্কতা
মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের জন্য জমা দেওয়া প্রতিবেদন/অনুষ্ঠান স্বত্বাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনসমূহের অনলাইন লিঙ্ক এবং টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদন/অনুষ্ঠানের ইউটিউব লিঙ্ক প্রতিবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে। যদি অনলাইন লিঙ্ক বা ইউটিউব লিঙ্ক না থাকে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের সম্পাদক/বার্তা সম্পাদক কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (১লা জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫) সংবাদ/অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়েছে মর্মে (প্রকাশ/প্রচারের তারিখ উল্লেখসহ) সত্যায়নপত্র যুক্ত করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে কন্টেন্টগুলো একই সময়ের মধ্যে প্রকাশিত/প্রচারিত হতে হবে। অসম্পূর্ণ/ভুল তথ্য সংবলিত আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
আবেদন করার নিয়ম/শর্ত
১. অভিবাসন খাত, অভিবাসী ও তাদের পরিবারের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এমন প্রতিবেদন/অনুষ্ঠান/সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট (প্রকাশিত বা সম্প্রচারিত) হতে হবে।
২. সংবাদ প্রতিবেদন বা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেশে বা প্রবাসে অবস্থানরত শুধু বাংলাদেশি সাংবাদিকরাই এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
৩. আবেদনকারীকে অবশ্যই তাঁর জীবনবৃত্তান্ত যথাযথ ফরম্যাটের মাধ্যমে (ফরম্যাট সর্বশেষে সংযুক্ত) পাঠাতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি হিসেবে প্রতিবেদন, যে মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তার বিবরণ জমা দিতে হবে।
৪. আবেদনকারী তাঁর কর্মজীবন সম্পর্কে অর্ধ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত বিবরণ (বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়) যুক্ত করে পাঠাবেন। যুক্ত ফরমেট পূরণ করে আবেদনপত্রের সঙ্গে পাঠাতে হবে।
৫. প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে (জাতীয় ও স্থানীয় উভয় ক্ষেত্রে) সংবাদপত্রে প্রকাশিত মূল কপি প্রেরণ করতে হবে। সংবাদপত্র এবং প্রতিবেদকের নাম ও তারিখ অবশ্যই দৃশ্যমান হতে হবে। সংযুক্তি হিসেবে প্রকাশিত কপি ছাড়াও সিডি/ডিভিডি/পেন-ড্রাইভের মাধ্যমে সংবাদটির ওয়েব লিঙ্ক এবং সফট কপি জমা দিতে হবে।
৬. সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে ফেসবুক পেজ/ ব্যক্তিগত আইডি অথবা ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত অন্তত দশটি কন্টেন্টের লিঙ্ক এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে, সেভাবে স্ক্রিনশট দিয়ে পাঠাতে হবে। (২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের পর কন্টেন্টের কোনো ধরনের সম্পাদনা গ্রহণযোগ্য হবে না)।
৭. টেলিভিশনের ক্ষেত্রে অবশ্যই সম্পূর্ণ স্ক্রিপ্টসহ প্রতিবেদনটি ডিভিডির মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
৮. অনলাইন মিডিয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রতিবেদনটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হতে হবে এবং অনলাইনে যেভাবে প্রচারিত হয়েছে সেভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি স্ক্রিনশটসহ জমা দিতে হবে। এ ছাড়াও ইউআরএলসহ সফটকপি সিডিতে জমা দিতে হবে।
৯. সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে অভিবাসন বিষয়ে তাদের যতগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ/মতামত/অনুষ্ঠান/টকশো প্রচারিত প্রকাশিত হয়েছে, প্রতিটি অনুষ্ঠানের ওয়েব লিঙ্ক যুক্ত করে পাঠাতে হবে। ওয়েব লিঙ্ক না থাকলে সিডি আকারেও পাঠানো যাবে।
১০. একজন আবেদনকারী একাধিক বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। তবে একটি বিভাগের জন্য একটি প্রতিবেদনের বেশি জমা দিতে পারবেন না।
১১. কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান পরপর তিনবার ব্র্যাক মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হলে, তাদেরকে বিনীতভাবে আবেদন না করতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
বিচারকমণ্ডলী
যেসব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সম্মানিত বিচারকমণ্ডলীর দ্বারা আবেদনকৃত প্রবন্ধ/অনুসন্ধানী প্রতিবেদন মূল্যায়ন করা হবে :
১. প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি।
২. গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একজন শিক্ষক।
৩. আন্তর্জাতিক সংস্থার একজন প্রতিনিধি।
৪. একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
আবেদনের শেষ তারিখ
‘একাদশ মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ কমিটির কাছে ২০২৬ সালের ৩০শে এপ্রিল বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদনটি পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার পরে কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। আবেদন সরাসরি বা ডাকযোগে জমা দিতে হবে।
আবেদন জমাদানের ঠিকানা
‘একাদশ মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’
মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম-ব্র্যাক
ব্র্যাক সেন্টার, ৭৫ মহাখালী (১২ তলা)
ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
ইমেল : migration.communications@brac.net
প্রয়োজনে যোগাযোগ : ফোন: +৮৮০২ ৯৮৮১২৬৫ এক্সটেনশন : ৩৯১৩, ৩৯১২
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
‘একাদশ মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’-এর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের তারিখ সংশ্লিষ্টদের যথাসময়ে জানানো হবে।