মৌচাষে মধুর সম্ভাবনা

তারিখ: 4 জান. 2026

লেখক: প্রিমা ফারিয়া

beekeeping-intxt0

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া। কুয়াকাটার সৈকত, আর বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে খুব সুন্দর এলাকা।

beekeeping-intxt1

এখানকার বেশিরভাগ জমি লবণাক্ত। জলাবদ্ধতা, জলোচ্ছ্বাস, অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে চাষাবাদের অযোগ্য। এসব জমিতে ফসলের আবাদ করার জন্য ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি (সিসিপি) কাজ করছে। আধুনিক চাষাবাদ, ভিন্ন ফসল, উন্নত বীজ, পরামর্শ সেবাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

beekeeping-intxt2

কলাপাড়ার কয়েকজন কৃষক ব্র্যাকের ‘এডাপটেশন ক্লিনিক’ থেকে মৌচাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। তাদেরকে মৌমাছি পালনের জন্য কাঠের বাক্স দেওয়া হয়। রানি মৌমাছি চেনা, পুরনো মধু সরানো, তাপমাত্রা ঠিক রাখা, পরজীবীর আক্রমণ ঠেকানো ইত্যাদি সবই ধাপে ধাপে শেখানো হয়।

beekeeping-intxt3

তাদেরই একজন জাকির হোসেন। প্রথমদিকে যখন মৌচাষের ব্যাপারে বলা হয়েছিল তখন তিনি বিশ্বাসই করতে চাননি যে, এত কিছু করা সম্ভব!

beekeeping-intxt4

কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ও মহিপুর ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে মৌচাষ শুরু হয়েছে। অনাবাদি জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষের পাশাপাশি এটি বিকল্প আয় এবং প্রাকৃতিক পরাগায়নের নতুন উদ্যোগ।

beekeeping-intxt5

গত মৌসুমে জাকির ভাইসহ আরও তিনজন কৃষক মৌচাষের মাধ্যমে সবমিলিয়ে পেয়েছেন ২০ কেজি মধু! সেই মধু বাজারে বিক্রি হয়েছে ৬শ থেকে ৭শ টাকা কেজি দরে।

beekeeping-banner

এক একর জমিতে ৩০-৪০টি বাক্স বসিয়ে মৌসুমে ৪৫০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া সম্ভব। জাকির ভাইয়ের দেখাদেখি তাই অনেক কৃষকই ফসল চাষ করা যাচ্ছে না বলে ফেলে রাখা জমি থেকে এখন সূর্যমুখী তেল এবং মধু দুইই পাচ্ছে।

প্রিমা ফারিয়া ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচিতে নলেজ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশনস অফিসার হিসেবে কর্মরত।