শিশুমনের ভয়কে করি জয়

তারিখ: 14 অক্টো. 2019

লেখক: তাজনীন সুলতানা

প্রত্যেক শিশুর রয়েছে নিরাপদ ও সুন্দর শৈশবের অধিকার। প্রতিদিন যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে গড়ে ৫ জন শিশু। ৭৫ ভাগ শিশুর যৌন নিপীড়ক পরিবারের ঘনিষ্ঠজন। এই পরিস্থিতিতে শিশুর মা-বাবা হিসেবে আপনি সুরক্ষার বিষয়টিকে কীভাবে অগ্রাধিকার দেবেন? এর শুরু হবে কোথা থেকে?

শিশু সুরক্ষার বিষয়টি ঘর থেকেই শুরু হতে হবে। আপনার সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ করুন। আপনার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই তাকে আজীবনের জন্য ভয়মুক্ত করতে সাহায্য করবে। শিশুর সঙ্গে কথোপকথন শুরু করার ক্ষেত্রে পাঁচটি বিষয়ের ওপর নজর দিন-

১. শিশুকে ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শ এবং ব্যক্তিগত অঙ্গ সম্পর্কে ধারণা দিন

গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশ শিশু নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া হয়রানির ঘটনা কারও কাছে প্রকাশ করে না। কারণ তাদের মধ্যে একধরনের লজ্জাবোধ ও জড়তা কাজ করে। নিজের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চেনা, ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শ এবং ব্যক্তিগত স্থানের গোপনীয়তা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেলে তারা এই লজ্জাবোধ সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবে। এতে তার নিজের সঙ্গে কোনো ঘটনা ঘটলে তা বুঝতে পারবে এবং কী ঘটেছে তার সঠিক বর্ণনা দিতে পারবে। সুতরাং শিশুকে বুঝিয়ে বলুন, প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত কিছু অঙ্গ রয়েছে। অন্য কেউ তা দেখার বা স্পর্শ করার অধিকার রাখে না।

শিশুকে ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শ সম্পর্কে জানান। তাহলে তারা বুঝতে পারবে যে, ব্যক্তিগত গোপন স্থানে অনাকাক্ষিত স্পর্শের কারণে কেন তাদের অস্বস্তি হতে পারে।

২. আস্থা রাখুন এবং তাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিন

শিশুকে নিশ্চিত করুন, তার প্রয়োজনীয় কিংবা অপ্রয়োজনীয় যে কোনো কথাই আপনার কাছে মূল্যবান। কাজেই সব কথাই তারা বলতে পারে-এমনকি শারীরিক বা মানসিক খারাপ লাগার কোনো ঘটনা ঘটলেও তা জানাতে পারে।

কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে শিশুরা ভীষণ ভয় পেয়ে যায়, বিশেষত যদি নির্যাতনকারী পরিবারের কাছের কেউ হয়। তাদের ভরসা দিন এই বলে যে, যা-ই ঘটে থাকুক না কেন, আপনি তার সঙ্গেই আছেন। এটি তার মনের সংকোচ কাটাতে সহায়তা করবে। সেইসঙ্গে তাদের আশ্বস্ত করুন যে, আপনি বিশ্বাস করেন অনাকাক্ষিত নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটলেও অবশ্যই তার জন্য সে কখনও দায়ী নয়।

৩. ‘না’ বলতে শেখান

শিশুকে শেখান, যে কোনো মন্দ স্পর্শকে ‘না’ বলতে হয়। যদি কেউ তার সঙ্গে খারাপ কথা বলে বা আচরণ করতে চায় তাহলে অবশ্যই জোরের সঙ্গে ‘না’ বলতে হবে।

শিশু নির্যাতনকারীরা সাধারণত বয়সে বড়ো হয় এবং শিশুদের ওপর তারা প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা রাখে। সুতরাং শিশুরও জানতে হবে যে, তার ‘না’ বলার অধিকার আছে। সেইসঙ্গে বলুন কোনো কিছু খারাপ লাগলে বা অনিরাপদ মনে হলে প্রথমেই যেন আপনাকে তা জানায়।

৪. খারাপ কথা বলাও একধরনের নির্যাতন

একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো নির্যাতন কেবল শারীরিকভাবেই হয়ে থাকে। কিন্তু সত্য হলো, আপত্তিকর কথাবার্তা ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও নির্যাতন করা যায়। যদি আপনার সন্তানের মনে হয় যে, কেউ এমন অপমানজনক কথা বলছে বা অঙ্গভঙ্গি করছে, যা তার ভালো লাগছে না, অস্বস্তি বোধ করছে তবে তাদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত এবং তক্ষুণি আপনাকে তা জানানো উচিত।

৫. কোনো কিছু গোপন করতে নেই

অপরাধীরা সাধারণত শিশুদের এই বলে দমিয়ে রাখে যে, যদি তারা ঘটনা গোপন না রাখে তাহলে তাদের সঙ্গে আরও খারাপ কিছু ঘটবে। এছাড়া জানাজানি হলে সবাই তাকেই দোষ দেবে। আপনি সন্তানকে বলুন, কেউ যদি এরকম হুমকি দেয় বা কিছু গোপন রাখতে বলে তাহলে তা অবশ্যই আপনাকে জানানো উচিত। আপনার কাছে তার কিছুই গোপন করার নেই।

আপনার সন্তানকে বলুন যে, শুধু তার ক্ষেত্রেই নয়, যদি অন্য কোনো শিশুর প্রতি কাউকে খারাপ আচরণ করতে দেখে বা খারাপ কথা বলতে শোনে তাহলেও তা যেন গোপন না রেখে আপনাকে জানায়।

5 1 vote ব্লগটি কেমন লেগেছে?